নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত এক যুগে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বদলে এটিএম বুথ ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে। যখন খুশি তখন এমনকি ৫০০ টাকাও নির্বিঘ্নে তোলা যায় বলে হাতে নগদ টাকা রাখার বদলে কার্ড পকেটে নিয়ে ঘোরাই শ্রেয় মনে করছেন গ্রাহকরা। এই অভ্যাস তৈরি হওয়ার পর দীর্ঘ ছুটিতে হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল কমই। তাই বুথে টাকা না পেয়ে ক্ষোভটা আরও বেশি।
পরপর পাঁচটি বুথে চেষ্টা করেও টাকা তুলতে পারেননি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র ষ্টোর কিপার জাহিদুল ইসলাম।
উত্তরবঙ্গের পাবনা শহর ও টেবুনিয়ার এলাকায় ব্যাংক এশিয়া, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক ও পুবালী ব্যাংক সহ বেশ কয়েকটি বুথে ঈদের পরপরই টাকা তোলার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু দেখা গেছে বুথ বন্ধ অথবা বুথে টাকা নেই। কোনো কোনো বুথে কার্ড নিচ্ছে না।
একাত্তর সংবাদকে তিনি বলেন, ‘বুথগুলোর কী সমস্যা? পাঁচটি বুথে গেলাম, টাকা পেলাম না। প্রয়োজনের সময় যদি টাকা তোলা না যায় তবে বুথ রেখে লাভ কী?’
তিনি আরো বলেন, পুবালী ব্যাংক পাবনা শহর এটিএম বুথ, টেবুনিয়া এটিএম বুথে কোন টাকা নেই, কবে দিবে তার নিশ্চয়তা নেই,কতদিন যাবত টাকা নেই তাও কেউ বলতে পারছেনা। তাদের কল সেন্টারে কল দিলে একটি অভিযোগ নম্বর দেয়া হয় সেটি বন্ধ।’
গ্রাহকের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্য ব্যাংকের বুথ থেকে টাকা উঠালে লাখে দুইশ টাকা কর্তন করছে। এভাবে গ্রাহকগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং আর্থিক ভাবে লোকসান দিচ্ছেন।
ঈদের ছুটি থেকেই দেশের বিভিন্ন এটিএম বুথে টাকার সংকটের তথ্য আসছে। বিভিন্ন ব্যাংকের বুথে গিয়েও মেশিন থেকে কোনো টাকা বের করতে পারেননি গ্রাহকরা। টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। এ নিয়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী গ্রাহক।
তবে গ্রাহকদের এই ভোগান্তি নিয়ে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বক্তব্য আসেনি। একাত্তর সংবাদ এ নিয়ে পুবালী ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের অভিযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।
বুথে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঈদের কেনাকাটার জন্য টাকা উত্তোলন বেড়েছে। সে জন্য দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে টাকা। ফের বুথে টাকা জমা করতে দেরি হওয়ায় গ্রাহকরা সমস্যায় পড়ছেন। তবে এ ব্যাপারে সুনিদিৃষ্ট কোন কারণ জানেন বলেও জানান তিনি।
গ্রাহকরা প্রতি বছরই অভিযোগ করেন, বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা থাকে না। নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে জটিলতাও দেখা যায়। ফলে ঈদের ছুটিতে টাকার অতি প্রয়োজনে গ্রাহকের ভোগান্তি বাড়ে। বুথ বদলিয়েও কোনো সমাধান হয় না গ্রাহকের। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক ঈদুল ফিতরের ছুটিতে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এই সংকট জেলা শহরে আরও বেশি।
গত বছরে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বুথ নিয়ে পাবনার অভিজ্ঞতা নিয়ে ভুক্তভোগী একজন ফেসবুকে লেখেন,
‘‘পাবনা শহরে অবস্থিত ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের পাবনা সদর থানার পাশে অবস্থিত ফাস্ট ট্র্যাকে গিয়ে দেখি বিশাল একটা লাইন। কিন্তু বুথে টাকা নেই। তাই সবাই যা-তা বলছে। বিষয়টি কি ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয় না। ‘চলে গেলাম শহরের যুবলী ট্যাংকের পাশে অবস্থিত ফাস্ট ট্র্যাকে। না, এখানেও নিরাশ হলাম। এখানেও বুথে প্রচুর মানুষের সমাগম। কিন্তু বুথে টাকা নেই। ‘আবারও দৌড়ানোর পালা। চলে গেলাম বীনা বানি হলের পাশে অবস্থিত ফাস্ট ট্র্যাকে। ফলাফল এখানেও টাকা নেই।’’
এরপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘ব্যাংকে মানুষ টাকা রাখে প্রয়োজনের সময়ে যাতে টাকা ব্যবহার করা যায়, সেই কারণে। কিন্তু টাকা যদি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিজের বাপ-দাদার সম্পত্তি বানিয়ে নেয় তাহলে গ্রাহকদের তো হাতে হারিকেন থাকবেই।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২ সালের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা দেশে ব্যাংকগুলোর ১২ হাজার ৮৯০টি এটিএম বুথ রয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ৮ হাজার ৯৪১টি, মফস্বলে আছে ৩ হাজার ৯৪৯টি।
পাবনায় যেসকল ব্যাংকের বুথ রয়েছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড, ব্রাক ব্যাংক লিমিটেড, ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, যমুনা ব্যাংক লিমিটেড,এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড, এবি ব্যাংক লিমিটেড, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, Pubali Bank Limited, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড এটিএম, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড এটিএম, প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক এটিএম, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড।